বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠাগার তৈরি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের পঠন
দক্ষতা ও পড়ার অভ্যাস তৈরিতে ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের
শ্রেণিকক্ষ পাঠাগার তৈরি করা হয়েছে। রুম টু রিড বাংলাদেশ’র উদ্যোগে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর
রহমান এসব পাঠাগার উদ্বোধন করেন। রুম টু রিড বাংলাদেশ’র
কান্ট্রি ডিরেক্টর রাখী সরকার স্বাগত বক্তব্যে মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়ন এবং
শিক্ষালাভের জন্য শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ ও শিশুবান্ধব পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা
তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত রুম টু রিড
বাংলাদেশ সাক্ষরতা কর্মসূচির আওতায় প্রায় তিন লাখ শিশু এবং এক হাজারের বেশি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি কাজ করেছে এবং প্রায় ৬০০০ পাঠাগার
স্থাপন করেছে। শ্রেণিকক্ষ পাঠাগারগুলোতে নিজস্ব প্রকাশনায় এ পর্যন্ত ১০৩টি
গল্পের বই প্রকাশসহ প্রায় ৮০ লাখ বই সরবরাহ করেছে রুম টু রিড বাংলাদেশ।
তিনি আরও বলেন, রুম টু রিডের এসব
কার্যক্রম সরকারি শিক্ষাকর্মকর্তা, বিদ্যালয়, অভিভাবক এবং শিশুদের কাছে
অনেক প্রশংশিত হয়েছে। শিশুদের মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়নে সরকার ও
আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংগঠনের যৌথ কাজ করার ক্ষেত্রে রুম টু রিড একটি আদর্শ ও
প্রশংসিত উদাহরণ।
অনুষ্ঠানে লেখক আনিসুল হক বলেন, রুম টু
রিড শিশুদের কাছে পাঠাগার নিয়ে যাচ্ছে। বই হলো ভালো বন্ধু। আমি মনে করি
যুবসমাজকে সাহিত্য পড়তে হবে, বই পড়তে হবে। এক্ষেত্রে রুম টু রিড যে কাজটি
করছে তা নিঃসন্দেহে অনন্য। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার
পাশাপাশি বই পড়ার বিকল্প নেই।
প্রধান অতিথি প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী
মোস্তাফিজুর রহমান রুম টু রিড বাংলাদেশ’র শ্রেণিকক্ষ পাঠাগারের প্রশংসা
করেন। তিনি রুম টু রিড এর কার্যাবলি ও প্রকাশিত শিশুতোষ গল্পের বইয়ে
প্রশংসা করেন। তিনি মানসম্মত শিক্ষার উন্নয়নে জীবনমান সহায়ক শিক্ষাপ্রসারে
সবাইকে এক হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক ড.
মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, আমাদের বর্তমান জীবনে শিশুদের শিশুবান্ধব
জীবন দিতে পারছি না। সেক্ষেত্রে রুম টু রিডের পাঠাগার কার্যক্রম শিশুদের
জন্য সেই সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে।
বর্তমান সরকার শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন
কাজ করে যাচ্ছে, যেমন শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ও গবেষণা। সর্বোপরি তিনি
রুম টু রিডকে সরকারের শিক্ষা কাজে সহযোদ্ধা হওয়ার জন্য আহ্বান জানান।
Comments
Post a Comment