মুক্তবুদ্ধি চর্চার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই

গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবদুল্ল্যাহ হারুন পাশা বলেছেন, বই জ্ঞান ও আন্দোলনের প্রতীক। মুক্তবুদ্ধি চর্চার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। আর তার পবিত্র জায়গা হলো লাইব্রেরী। তিনি বলেন, সরকার ই-লাইব্রেরী চালুসহ দেশে ৭০টি গণ গ্রন্থাগারকে জাতীয় গ্রন্থাগারের সাথে যোগসূত্র স্থাপনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি ১২ ডিসেম্বর (সোমবার) দুপুরে বৃহত্তর ঈদগাঁও পাবলিক লাইব্রেরী পরিচালনা কমিটি আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির উপদেষ্টা মাষ্টার মোজাম্মেল হক ফরাজীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার নুরুল আজিমের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার বদিউল আলম, কক্সবাজার সরকারী গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরীয়ান বাবু টিংকু দে, জাতীয় মহিলাসংস্থার কক্সবাজারস্থ চেয়ারম্যান কানিজ ফাতেমা মোস্তাক। অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র পরিদর্শক (নি.) খায়রুজ্জামান, ঈদগাঁও আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক তারেক আজিজ, জেলা যুবলীগ নেতা হুমায়ুন কবির হিমু, রাজনীতিক ও লেখক কাফি আনোয়ার। উপস্থিত ছিলেন ঈদগাঁও বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা পরিষদ সভাপতি সিরাজুল হক, জেলা বিএনপি নেতা জানে আলম, মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান চৌধুরী, পোকখালী আ.লীগ সভাপতি মোজাহের আহমদ, ব্যবসায়ী ছব্বির আহমদ কোম্পানী, শিক্ষক বদিউর রহমান, ব্যবসায়ী রাহমত উল্লাহ, আ.লীগ নেতা মাষ্টার মোখতার আহমদ, ঈদগাঁও প্রেস ক্লাস সভাপতি মো. রেজাউল করিম, এএসআই মহিউদ্দীন, বীমা কর্মকর্তা নাছির মিয়া, সাবেক যুবদল নেতা মামুন সিরাজুল মজিদ, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড সভাপতি হামিদ হাসান, নুরুল হাকিম নুকী, শ্রমিকলীগ নেতা ছোটন রাজা, নুরুল আবছার সওদাগর, মোহাম্মদ আলম, মমতাজ আহমদ, নুরুল আমিন, ওয়াহিদুর রহমান, সুনীল দে, জাহাঙ্গীর আলম, সোহেল, ফারুক আহমদ প্রমুখ। পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তনে আয়োজিত মত বিনিময়ে অন্য বক্তারা বলেন, জাতির মেধা ও মননশীলতার বিকাশ, সাংস্কৃতিক আবহ তৈরী, শিক্ষা ও সামাজিক পরিস্থিতির উন্নয়ন, অতীতের অন্ধকার ঘুছিয়ে ভবিষ্যতের আলোকবর্তিকা তৈরিতে পাঠাগারের ভূমিকা অনন্য। স্বাধীনতা সংগ্রামসহ জাতীয় ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন হতে, শিক্ষা-সংস্কৃতি ও খেলাধুলার প্রসারে সমৃদ্ধ লাইব্রেরীর ভূমিকা অতুলনীয়। শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে, মানুষের চিন্তা-চেতনায় পরিবর্তন আনতে লাইব্রেরী সহায়ক ভূমিকা পালন করে। মানব ও মাদক পাচারের মত সমাজ বিধ্বংসী কার্যক্রম হতে বই পড়ার মাধ্যমে সুরক্ষা পাওয়া যায়। তারা নব স্থাপিত এ লাইব্রেরীকে কেন্দ্র করে খেলাধুলা, সঙ্গীত চর্চা, কম্পিউটার প্রশিক্ষণসহ বহুমুখী পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ধন সম্পদ চুরি হতে পারে, কিন্তু জ্ঞান চুরি হতে পারে না এ মন্তব্য করে বক্তারা আরো বলেন, শিক্ষা-দীক্ষায় সমৃদ্ধ জাতিকে কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। তারা ১৮ শতকের কবি কুসুম কুমারী দাশ ও শিক্ষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর বই পড়ার কাহিনী তুলে ধরে বলেন, অজপাড়া গাঁয়ের বৃহত্তম এ বাণিজ্যিক এলাকায় একটি পরিপূর্ণ লাইব্রেরী গড়ে তোলা সময়ে দাবী। উপজেলার দাবীদার বৃহৎ এ এলাকায় বেসরকারীভাবে যাত্রা শুরু করা এ পাঠাগারকে উত্তরোত্তর সমৃদ্ধ করতে সরকারের পাশাপাশি সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। অন্যথায় সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন কখনো পূরণ হবে না। প্রধান অতিথি মতবিনিময় শেষে পরিদর্শন বইতে মন্তব্য কালে জেলা শহর থেকে প্রায় ৪০ কি.মি. দূরত্বে অবস্থিত এ লাইব্রেরীর উন্নতি কামনা করেন।

Comments

Popular posts from this blog

রাজশাহী বিভাগ নিবন্ধনকৃত বেসরকারী গ্রন্থাগারের তালিকা -১

বরিশাল জেলার গ্রন্থাগারের তালিকা

পাঠাগারের প্রয়োজনীয়তা